×
  • প্রকাশিত : ২০২৩-১১-০৪
  • ১৬৬ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হতে যাচ্ছে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহনে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে তারই ধারাবাহিকতায় এই সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের চারলেনে উন্নীতকরণের কাজ সম্পাদন হবে। মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে শুধু দেশেই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এমনকি ভুটানের সঙ্গেও বাড়বে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য। নতুন করে বিকাশ ঘটবে পর্যটন সম্ভাবনার ।

এই প্রকল্পের আওতায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পীর হবিবুর রহমান চত্বর থেকে তামাবিল পর্যন্ত ৫৬.১৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।  সড়কটি সংযুক্ত হবে সিলেট-ঢাকা ৬ লেন মহাসড়কে।  প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা।  প্রকল্পের আওতায় ৫টি সেতু, ১১টি ফুটওভারব্রিজ, সাতটি বাসস্ট্যান্ড, ছয়টি ইউলুপ ও একটি টোলপ্লাজা নির্মাণ করা হবে।  ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।  প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক।

সিলেট বিভাগের তিন দিকেই রয়েছে ভারত সীমান্ত। সিলেটের বিভিন্ন স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হয়ে থাকে তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে।  সিলেটের পার্শ্ববর্তী ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা থাকলেও অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।   দক্ষিণ এশিয়া জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধিকরণ; প্রকল্প এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন; অত্র অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন; এবং নিরাপদ, টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যেই এই মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।  মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে ভারতের সাথে বাড়বে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য। পাশাপাশি ট্রানজিট সুবিধার আওতায় ভূটানের সাথেও বাড়বে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেটের বেশিরভাগ পর্যটনকেন্দ্রই সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের আশপাশে অবস্থিত। ফলে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে জাফলং, লালাখাল, শ্রীপুর ও পান্তুমাইসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত আরও সহজ হবে। এতে সিলেটে বাড়বে পর্যটকদের আগমন।

গত মে মাসে ভারতের ডাউকি স্থলবন্দর উদ্বোধন হয়েছে।  এ স্থলবন্দর ভারতীয় সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।  বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসা বণিজ্য বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে মেঘালয়ের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করছে ভারত সরকার।  ডাউকি স্থলবন্দর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায় বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসা বণিজ্য বৃদ্ধিতে এ স্থলবন্দর সহায়ক হবে।  মেঘালয় রাজ্যের উন্নয়নে যুগান্তকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে বর্তমান সরকার।  তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামসহ সেভেন সিস্টার্স খ্যাত রাজ্য গুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে উভয় দেশ আরও এগিয়ে যাবে। মেঘালয়ে আগত পর্যটকেরাও আধুনিক মানের সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন।  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকায় সীমান্ত অনেক সুরক্ষিত রয়েছে বলেও তার মন্তব্য। সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে মূলত ভারত থেকেই চুনাপাথর ও বোল্ডার পাথর আমদানি করা হয়। ভুটান থেকেও কিছু বোল্ডার পাথর আসে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে স্থলবন্দরটি।

ভারতের মেঘালয়ে যাতে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, কিংবা প্রসেসড ও হিমায়িত খাবারের মতো পণ্য সরাসরি আমদানি করতে পারে, বাংলাদেশে সরকারের কাছে সেই অনুরোধ জানিয়েছে মেঘালয় কর্তৃপক্ষ।  গত ১৮ মে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এই প্রস্তাব দেন। মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও বেশিরভাগ অংশেই কোনও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। ডাউকি-তামাবিল সীমান্ত ছাড়া আর কোনও পথে বাংলাদেশ-ভারতের মানুষের যাতায়াতও তেমন নেই। ফলে মেঘালয় বিপুল পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশ থেকে কিনলেও তার বেশি আসে গুয়াহাটি, কলকাতা বা ত্রিপুরা হয়ে।  এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে মেঘালয় এখন চাইছে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে নিজেরাই আমদানি করতে, যাতে খরচ অনেক কম পড়বে ও মেঘালয়ে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদাও বাড়বে। মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মেঘালয়ের সঙ্গে ‘কানেকটিভিটি এবং ‘পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট (মানুষে মানুষে সংযোগ) বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুস্তাফিজুর রহমান।

 

সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা এতটাই বেড়েছে যে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলছেন, ঢাকার কাছে ভারতের নর্থ-ইস্ট হয়ে উঠেছে ‘নতুন কলকাতা। অর্থাৎ আগে বাংলাদেশের কাছে কলকাতা যেমন বিরাট গুরুত্ব পেতো, এখন উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোও দ্রুত সেই জায়গায় চলে আসছে। আর এরমধ্যে মেঘালয় অবশ্যই অগ্রগণ্য। প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেই কেবল দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শেখ হাসিনার সফরে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে যে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল, তাতেও উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। মেঘালয় সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার সেই ধারাবাহিকতাতেই শিলং সফরে গিয়েছিলেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুস্তাফিজুর রহমান। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুস্তাফিজুর রহমান মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাকে জানান, বাংলাদেশ সরকার ভারতের উত্তর-পূর্বের সঙ্গে রেল, সড়ক ও নদীপথে সংযোগ বাড়াতে খুবই উৎসাহী। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে যদি মেঘালয়ের বিনিয়োগকারীরা লগ্নি করতে চান, তাহলে সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলেও রাষ্ট্রদূত মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দেন। সীমান্ত অঞ্চলে বিভিন্ন ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনগুলোর কর্মকাণ্ডও সরেজমিন ঘুরে দেখেন হাইকমিশনার। মেঘালয়-বাংলাদেশ সীমান্তের ডাউকি-তামাবিলে তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনায় বসেন। ডাউকি-তামাবিল দিয়ে যে পর্যটকরা যাতায়াত করেন, তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেও নানা পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে।  মূলত চার লেন সড়ক ও মেঘালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে বাণিজ্যিক হাব হিসেবে এই অঞ্চলকে গড়ে তোলার জন্য, যার সুফল ভোগ করবে দুই দেশ। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat